শিশুদের লেখাপড়ায়, বোঝার ওপর শাকের অাঁটি

Photoxpress_5302350

আব্দুল মান্নান খান

শিশুদের লেখাপড়া নিয়ে আর কিছু লিখব না বলে কয়দিন আগে বলেছিলাম। তারপর এত শীঘ্র যে সে কথা রাখা যাবে না তা তো ভাবতে পারিনি। কী করব_ পঞ্চম শ্রেণী থেকে পাবলিক পরীক্ষা তুলে দেয়ার ঘোষণা শুনে মনটা যে ইতোমধ্যে ভালো হয়ে গেল। আজকের লেখা শুরু করার আগে তাই সকলকে ধন্যবাদ জানাই যারা পঞ্চম শ্রেণী শেষে পাবলিক পরীক্ষা তুলে দিতে কাজ করেছেন সহযোগিতা করেছেন সাপোর্ট করেছেন এমন কি মানববন্ধন করেছেন। বলতে কি আমিও তাদের একজন সাথী ছিলাম এ কলামে। কোমলমতি শিশুদের ওপর থেকে একটা পাথর সরে গেল বলে আমি মনে করি যা ওদের ওপর চেপে বসেছিল। ওরা এখন ওদের অজান্তে এর আনন্দটুকু উপভোগ করতে পারবে। ঘুমের শিশুকে কেউ আর টেনেহেঁচড়ে কোচিংয়ে নেবে না প্রাইমারিতে জিপিএ গোল্ডেন পাওয়াতে হবে বলে। অভিনন্দন তাই সকলকে।

আসি আজকের বিষয়ে। সেদিন ঝিনাইদহ জেলার এক উপজেলা শহরের একটা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের কাছে দাঁড়িয়ে আছি। কিছু সময় হাতে আছে দেখে এর-ওর সাথে দু’একটা কথা বলছি। শিশুদের ছোটাছুটি দেখছি তখন সকাল ১০টা হবে। এমন সময় এক ভদ্রলোক এসে সাইকেল থেকে নামলেন। দেখে শিক্ষক মনে হলো। দেখলাম তার কোন তাড়া নেই। সাইকেল থেকে নেমে ইতি-উতি করছেন। সাইকেলে ঝুলানো ব্যাগে কিছু খাতাপত্র দেখা গেল। তার দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে বললাম, আপনি এই স্কুলের শিক্ষক বুঝি। তিনি বললেন, শিক্ষক তবে এ স্কুলের না। ‘সেভ দি চিলড্রেন’ এর শিক্ষক আমি। এই স্কুলে আজ আমাদের প্রোগ্রাম আছে। আমার স্যার আসবেন তাই অপেক্ষা করছি। বললাম, কিসের প্রোগ্রাম। তিনি বললেন, আমরা শিশুদের বই দিই, পড়াই, শিক্ষকদের ট্রেনিং দিই। তিনি আরো বললেন, তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে আমরা কাজ করি। আমি জানতে চাইলাম, সেভ দি চিলড্রেন কি সরাসরি কাজ করে এখানে। বললেন _না, লোকাল এনজিও আছে। আমরা লোকাল (দেশি) এনজিওর লোক। কি ধরনের বই দেন কি শেখান_ কথায় কথায় এসব জানতে চাইলে তিনি বই কাছে ছিল না বলে দেখাতে পারলেন না তবে তার কাছে পূরণ করতে হবে এমন কিছু প্রিন্টেড শিট দেখা গেল। আর যা বললেন তা শুনে আমার তো একেবারে আক্কেল গুড়ুম। বললেন, আমরা শিশুদের ফোনেটিঙ্ শেখাই। বললাম তার মানে কী! বললেন, ধ্বনিসচেনতা। এ কথা শুনে আমি ভেতরে একটা ধাক্কা খেলাম যেন। ৫ম শ্রেণীর কথা বাদই দিলাম তৃতীয় শ্রেণীর শিশুদের কী পরিমাণ লেখাপড়া করতে হয় তা নিয়ে আমি কয়েক বার লিখেছি এ কলামে। হেন কিছু নেই যা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ান হয় না। কোন কোন বিষয়ের কারিকুলাম এবং তার প্রশ্নপত্র দেখলে এমন মনে হতে পারে যে, এ বিষয়ে জীবনে যেন আর কিছু পড়ার প্রয়োজন হবে না ওদের। তৃতীয় শ্রেণীতেই সব পড়িয়ে শেষ করতে হবে। তৃতীয় শ্রেণীতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ান হয়। এই ছয়টি বিষয়ের ক্যারিকুলাম বা পাঠ্যসূচি এবং সেই মোতাবেক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাশাপাশি এখানে তুলে ধরা গেলে সেটা দেখে আমি মনে করি যে কোন পাঠক নড়েচড়ে বসবেন না একেবারে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়বেন। বলবেন, হয়েছে বাবা আর দরকার নেই। একবার তৃতীয় শ্রেণীর ইংরেজির চার পৃষ্ঠার (সৃজনশীল পদ্ধতির) এক সেট প্রশ্নপত্র তুলে ধরে বলেছিলাম, তৃতীয় শ্রেণীর ৮-৯ বছরের কোমলমতি একটা শিশুর পক্ষে সুদীর্ঘ এ প্রশ্নপত্রখানা পড়ে-বুঝে কীভাবে ২ ঘণ্টায় উত্তর করা সম্ভব। আর যদি সম্ভব হয়ও সেটা কত পার্সেন্ট শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব। এমন লেখাপড়া করার মতো সুযোগ-সুবিধাই বা আমাদের কতজন ছেলেমেয়েরা পেয়ে থাকে। বাকি সাধারণ ছেলেমেয়েরা কী করবে। শুধু ইংরেজি কেন প্রত্যেকটা বিষয়ের ওই একই অবস্থা। এই যখন তৃতীয় শ্রেণীর লেখাপড়ার অবস্থা সেখানে আরও কিছু ওদের ওপর চেপে বসছে শুনলে ধাক্কা তো একটু লাগতেই পারে।

সে যাহোক, ভদ্রলোক বললেন তারা শিশুদের কয়েকটা বিষয় শেখান যেমন আগেই বলেছি তার ভাষায় ১. ফোনেটিঙ্ বা ধ্বনিসচেতনতা ২. বর্ণজ্ঞান ৩. শব্দভান্ডার ৪. সাবলীলতা ৫. বোধগম্যতা ৬. কৌশল (সম্ভবত আয়ত্ব করার কৌশল)। তিনি আরও বললেন তারা শিক্ষার্থীদের সহায়ক বই দেয় সেটা ওদের পড়তে হয় এবং আরো কত কিছু তার থেকে করতে হয়। এর জন্য শিক্ষকদের ট্রেনিং দেয়া হয়। সপ্তাহে দুদিন এটা করা হয় বলে সম্ভবত তিনি বলেছিলেন। জানতে চাইলে তিনি আরও বলেছিলেন, এটা আপাতত কয়েকটা জেলা/উপজেলাতে চলছে। তবে সারা দেশে সমপ্রসারণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি বললাম, সব শিশুর পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় যা বই সে তো সরকার বিনামূল্যেই দিচ্ছে প্রতিবছর_ আপনারা আবার শিশুদের কী বই দেন_কেন দেন। এর মাঝে তার ওই স্যার ভদ্রলোকটি এসে পড়লেন। সুন্দর চেহারার মানুষটির সাথেও আমার হাঁটতে হাঁটতে ওই সব কথায় কিছু হলো। তিনি জানতে চাওয়ার আগেই বলেছি, আমি এক সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে চাকরি করেছি_সেই আগ্রহ থেকেই একটু জানতে চাওয়া। এ সময় বাস এসে পড়ায় আমি আর কথা বলতে পারলাম না। বাসে উঠে পড়লাম। কিন্তু মাথা থেকে বিষয়টা আর যায় না। মনে পড়ে অনেক আগের এক ঘটনার কথা।

আমি তখন এজিবি অফিসে অডিটর পদে চাকরি করি। একদিন অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ একটা বরাদ্দপত্র নিয়ে আমাদের অফিসে এসেছিলেন। সেকশন সুপারের পাশে বসেছিলেন। তার কাজটা ছিল আমার টেবিলে। তার কাজ আমার টেবিলে না হলেও আমি তার সাথে কথা বলতাম। তার লেখা বই ‘শাহানার অজানা জীবন’ পড়ে আমার কিছু প্রশ্ন তখন মনের মধ্যে জমা হয়ে ছিল। সেদিন এ অবস্থায় তাকে পেয়ে সেটা জানতে না চেয়ে নিশ্চয় ছেড়ে দিতাম না। সেকথায় পরে আসি।

আমি তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, আপনি বাংলার স্বনামধন্য একজন অধ্যাপক হয়ে লন্ডনে গিয়েছিলেন বাংলার কী পড়তে। মনে আছে আমার কথায় তিনি বেশ মজাই পেয়েছিলেন। বলেছিলেন, ওরা দু’শ বছর এদেশ থেকে শুধু ধনসম্পদই নিয়ে যায়নি আরো অনেক কিছু নিয়ে গেছে। যে কোন বিষয়ে উচ্চতর লেখাপড়া করতে চাইলে ওদের ওখানেই যেতে হবে। বলেছিলেন, আমি ফোনেটিঙ্রে পরে পিএইচডি করতে গিয়েছিলাম’। সম্ভবত ওই আমি প্রথম ফোনেটিঙ্ শব্দটা শুনেছিলাম। মনে পড়ে কয়েক টেবিলে ঘুরে তারপর চেক সেকশনে গিয়ে বাকি কাজ সেরে চেকটি তার হাতে তুলে দিয়ে বিদায় করেছিলাম। এর ফাঁকে জানতে চেয়েছিলাম তার ওই উপন্যাসের নায়িকা শাহানাকে কেন তিনি সংসার জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারলেন না। আরো এক হরতালের দিন তার সাথে এক রিকসায় চড়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। তিনি রিকসায় যাচ্ছিলেন। আমাকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ডেকে নিয়েছিলেন। সেদিনও ওই কথা উঠিয়েছিলাম। যদিও আমি তখনো জানতাম এখনো জানি বাংলা উপন্যাসে কোন লেখকই পারেননি একবার কোন কারণে নায়িকার সম্ভ্রম হরণ হয়ে গেলে তাকে সংসার জীবনে ফিরিয়ে আনতে যদিও নায়িকার কোন দোষ থাকে না। আমার কথায় তিনি হেসেছিলেন। বলেছিলেন, আপনি একদিন আসেন কথা হবে_ এ পর্যন্তই।

যাহোক, ওই ধ্বনিসচেতনতা প্রসঙ্গে আর কি বলব, কিছু জানলে তো বলব। তবে লাভ হলো এ নিয়ে একটু স্মৃতিচারণ করা গেল এই যা। তবে যেটা বলতে পারি তা হলো, আঞ্চলিকতা পরিহার করে শুদ্ধ উচ্চারণের মাধ্যমে শিশুদের পাঠদান করতে হবে এটা শিক্ষক মহোদয়গণের অন্যতম প্রধান কাজ। শিক্ষক নিয়োগের সময় মৌখিক যে পরীক্ষাটা নেয়া হয় সে তো ওই জিনিসটায় দেখার জন্য যে, তার উচ্চারণ ঠিক কি-না। আঞ্চলিকতার উধর্ে্ব কতটুকু উঠতে পেরেছেন। তার পরিমিত বাংলা উচ্চারণ বোধ কতখানি। তারপর আছে এক বছরের পিটিআই ট্রেনিং। কী শেখেন সেখানে। ওই সবই তো শেখেন। তারপর চলে আরও কত ট্রেনিং। দূরশিক্ষণের মাধ্যমেও ওই শুদ্ধচর্চা শিক্ষকদের জন্য থাকতে পারে। এক সময় কোন একটা প্রোগ্রামে ‘ডিসট্যান্স এডুকেশন’ চালু হয়েছিল বলে মনে পড়ে। সে যাহোক, শিক্ষকদের থেকে শিশুরা যত সহজে কোন কিছু গ্রহণ করতে পারে তত সহজে আর কারো কাছে কোন ভাবে পারে না। এখন এই ধ্বনিসচেতনতা, বর্ণজ্ঞান, শব্দভা-ার, সাবলীলতা, বোধগম্যতা ও কৌশল এবং আরও মূল্যবান শিক্ষা যাই থাক না কেন সেটা একটা সামগ্রিক কারিকুলামের মধ্য দিয়ে শিশুদের কাছে পেঁৗছাতে হবে। এর জন্য অন্য সব আগের মতো রেখে আলাদা বই-খাতাপত্র, আলাদা প্রোগ্রাম চাপালে হবে কীভাবে।

পরের কথাগুলো যেমন বর্ণজ্ঞান, শব্দভা-ার, সাবলীলতা, বোধগম্যতা ও কৌশল এসব নিয়ে আমার কিছু বলতে না যাওয়া ঠিক হবে না। কারণ এর জন্য আমি মনে করি বিশেষ লেখাপড়ার প্রয়োজন আছে যা আমার নেই। শব্দভা-ার নিয়ে যেকথা বলা যায় তা হলো, যে বই-পুস্তক যে পাঠ্যসূচি মোতাবেক প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া চলছে সেখানে কি তাহলে শব্দভান্ডারের ঘাটতি পড়েছে(?)। তা সে ঘাটতি যদি হয়েই থাকে তবে এনসিটিবির দেখা দরকার কীভাবে কারিকুলাম সাজালে ওদের ভেতর শব্দভা-ার বৃদ্ধি পায়। এ রকম বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বইপত্র লেখাপড়া চাপিয়ে দিলে হবে না। সেটাও আসতে হবে ওই সামগ্রিক কারিকুলামের মধ্য দিয়ে।

এখন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন শিশুদের মুখে কথা ফোটার সময়ই এসব শেখানোর আসল সময় তাহলে নিশ্চয় এর একটা ভিত্তি থাকবে। গবেষণালব্ধ ফলাফল কিছু হাতে থাকবে। তবে একথা ঠিক ধ্বনিসচেতনতা, বর্ণজ্ঞান, শব্দভান্ডার, সাবলীলতা, বোধগম্যতা ও কৌশল এগুলো সুষ্ঠুভাবে জানা সবার জন্যই দরকার এবং বাল্যকাল থেকেই শুরু করা দরকার। সেভ দি চিলড্রেন অনেক গবেষণা করে এগুলো বার করেছে এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে আমরা কি গবেষণা করে দেখেছি আমাদের প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়া শিশুদের কাছে কীভাবে উপস্থাপন করলে তারা সহজে গ্রহণ করতে পারবে। এমন কী বুঝতেই পারবে না ওগুলো তাদের শিখান হচ্ছে। আসলে ওগুলো তো এমনই শিক্ষা যে, শিখবে অথচ টেরই পাবে না অতিরিক্ত কিছু শিখছে। এ নিয়ে কোন গবেষণা হয়েছে কি না জানা নেই তবে আমি মনে করি এসব নিয়ে প্রচুর গবেষণার প্রয়োজন আছে। আমি মাঝে মধ্যে চীনদেশের প্রাথমিক শিক্ষার কথা প্রাসঙ্গিক মনে হলে একটু-আধটু বলে থাকি। এখানেও একটু বলি। ওরা আমাদের জানিয়েছিল, ওদের ওখানে ৩০০ জন গবেষণা কর্মকর্তা সারা বছর কেবল প্রাইমারির কারিকুলাম নিয়ে গবেষণা করে যায় এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সংযোজন বিয়োজনও চলতে থাকে। আবার দীর্ঘমেয়াদি গবেষণাও চলে। আমাদের এখানে কারিকুলাম নিয়ে কাজ করে এনসিটিবি। এখন আমি যেটা বলতে চাই, আমাদের ১ম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠরত শিশুরা এনসিটিবি প্রণীত কারিকুলাম মোতাবেকই তো লেখাপড়া করছে। এখন একটা নতুন প্রোগ্রাম এসে তার সাথে যুক্ত হলো। এই যুক্ত করতে গিয়ে এনসিটিবি কি আগের বা চলতি কারিকুলামের ওপর কিছু কাটছাট বা কোন পরিবর্তন এনেছে। এ প্রশ্নটা আমি সময় পেলে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের কাছে করতে পারতাম এবং ফিল্ড থেকেই জেনে নিতে পারতাম। যার সাথে কথা হয়েছিল ওই ভদ্রলোক তেমন বলতে পারলেন না_ পারার কথাও না। তবে তারা ভালো বলেছেন এবং যা বলেছেন তাতেই বোঝা গেছে। বলেছেন, তাদের কাজ সম্পূর্ণ তাদের মতো। তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে শিশুদের লেখাপড়া যেমন চলছে সেটা যাতে আরও উন্নত মানের করা যায তার জন্য তাদের এ প্রোগ্রাম_মূল বিষয়াদির সঙ্গে এর কোন টানাপোড়েন বা সংঘর্ষ নেই।

শেষ করতে চাই যে কথা বলে, শিশুদের লেখাপড়া আরও উন্নত মানের হবে নতুন নতুন নিয়ম-নীতি-পদ্ধতি আসবে এটায় স্বাভাবিক এবং সবাই তাই আশা করে। তবে যায়-ই হবে কারিকুলামে যোগ-বিয়োগ হয়েই না সেটা হতে হবে। কারিকুলাম অপরিবর্তিত রেখে সেটা করতে গেলে তো ওই ‘বোঝার ওপর শাকের অাঁটি’ চাপানোর শামিল হবে। আর ওই কথাটা আবারও বলি, ধ্বনিসচেতনতা বর্ণজ্ঞান শব্দভান্ডার সাবলীলতা বোধগম্যতা ও কৌশল এবং আরও মূল্যবান শিক্ষা যায়-ই থাক না কেন সেটা একটা সামগ্রিক কারিকুলামের মধ্য দিয়েই না শিশুদের কাছে পেঁৗছাতে হবে_ তবেই না তার স্থায়ী সুফল পাওয়া যাবে।