উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতি

1436713849
উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা যাচাই করার জন্য  নভেম্বর ও ডিসেম্বর ২০১০ সময়ে আমাদের ১২জনের একটি দলকে বরগুনা থাকতে হয়েছিল । আমাকে শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত অনেকের সাথে কথা বলে তথ্য নিতে হয়েছে। এসবের মাধ্যমে যে বিষয়টি লক্ষ্য করলাম তা হল বরগুনার সদর উপজেলার গ্রামের মানুষের মধ্যে বহুবিধ পরিবর্তন এসেছে এবং পরিবর্তনের ধারা চলমান রয়েছে। সরকারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মসুচির ফলে এই পরিবর্তন তরান্বিত হয়েছে। সিডোরের পর উপকূলের মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশের সাথে নিজেকে সামাল দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে এই পরিবর্তন দৃশ্যমান। প্রাপ্ত তথ্যসমূহ থেকে এখানে শুধুমাত্র মা ও শিশু বিষয়ে উন্নয়ন সম্পর্কে উল্লেখ করা হল।
বাঙ্গালী জাতি ভবিষ্যতে একদিন উন্নত জাতি হিসাবে গড়ে উঠবে সে কথাই বলে দেয় এখানকার বর্তমান উন্নয়নের উদ্যোগসমূহ। সচেতনতা মানুষকে সামনের দিকে এগিয়ে চলতে সহায়তা করে, আর এ সচেতনতা তৈরী করতে কাজ করছে এখানকার সরকারী, বেসরকারী ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশেষকরে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ। এদের কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে প্রাকবিদ্যালয় কার্যক্রম, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, শিশু লালন পালন কেন্দ্র, শিশু উন্নয়ন মেলা, শিশু স্বাস্থ্য সেবা, শিশু অব্যাহত শিক্ষা, শিশু সাধারণ শিক্ষা, শিশু অধিকার, ঝরে পড়া শিশু স্কুলগামী করা, শিশু শিক্ষা, নিজেদের বেড়ে ওঠা, খেলা ধূলা, শিশু পুষ্টি এবং এ রকম আরও অনেক কর্মসূচি।
এই সব সংগঠনের কর্মসূচির ফলে এখান থেকে দিনে দিনে অলোকিত মানুষ তৈরী হচ্ছে। আর সেই সাথে কমে যাচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু ঝরে পড়ার হার । শুধু তাই নয়, এখানকার মায়েরা শিখেছেন তাদের শিশুদেরকে কিভাবে বড় করে তুলতে হয়; শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য খাদ্য, পুষ্টি, পরিবেশ, ভাল আচরণ, শাল দুধ খাওয়ান, বুকের দুধ খাওয়ান, টিকা দেওয়া, অসুখ হলে সাথে সাথে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তারের কাছে যাওয়া ইত্যাদি। প্রত্যেকটি বিষয়ে আলাদা আলাদা ভাবে পোস্টার, লিফলেট, ফ্লিপচার্ট, বই ও সরাসরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মায়েরা সচেতন হয়েছে এবং এসব কর্মসূচি অব্যাহত আছে।
অভিভাবকেরা তাদের শিশুদেরকে বিদ্যালয়ের শিশুশ্রেণীতে পাঠাচ্ছেন । প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের সাথে শিশু শ্রেণীর কক্ষগুলিকে শিশুর শিক্ষার জন্য মোটামুটিভাবে উপযোগী করে সাজান হয়েছে। এসব শিশুশ্রেণী কক্ষসমূহে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। শ্রেণী কক্ষের পরিবেশ থেকে শিশুরা খেলা, গল্প, ছবি দেখা ইত্যাদির মাধ্যমে শিখছে আর এভাবে এগিয়ে যাচ্ছে পরবর্তী শ্রেণী সমূহে।
একটি  দেশের সুস্থ জাতি গঠনের কার্যক্রম শিশুদের থেকে শুরু করার যে কোন বিকল্প নেই এ কথা বলে দেয় বরগুনা সদর উপজেলা বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকান্ড।
মোঃ নজরুল  ইসলাম খান
পরিচালক
শিক্ষা প্রকল্পন ও উন্নয়ন গবেষণা ফাউন্ডেশন (ফ্রেপড)
e-mail: mnazrulislamkhan@gmail.com