মাদ্রাসা শিক্ষা

63978_189
উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
মাদ্রাসা শিক্ষায় ইসলাম ধর্ম শিক্ষার সকল প্রকার সুযোগ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন
ইসলামের আদর্শ ও মর্মবাণী অনুধাবনের পাশাপাশি জীবনধারণ সংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করতে পারে এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী হয় ও তার উৎকর্ষ সাধনে ভূমিকা রাখতে পারে তার জন্য যথার্থ জ্ঞান
লাভের ব্যবস্থা করা হবে। সাধারণ বা ইংরেজি মাধ্যমে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতায় তারা যেন
সমানভাবে অংশ নিতে পারে সেজন্য মাদ্রাসা শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিম্নরূপ ঃ
১.শিক্ষার্থীর মনে সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর রাসূল (সা:)-এর প্রতি অটল বিশ্বাস গড়ে তোলা
এবং শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রকৃ ত মর্মার্থ অনুধাবনে সমর্থ করে তোলা।
২. দ্বীন ও ইসলামের ঐতিহ্যের প্রচার ও প্রসারের জন্য অনুকরণীয় চরিত্র গঠণ এবং ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন
দিক, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কার স¤পর্কে জনগোষ্ঠিকে সচেতন করা ও ধর্ম অনুমোদিত পথে
জীবন-যাপনের জন্য তাঁদেরকে উদ্বুদ্ধ করার উপযোগী করে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা।
৩. শিক্ষার্থীরা এমনভাবে তৈরি হবে যেন তারা ইসলামের আদর্শ ও মর্মবাণী ভাল করে জানে ও বোঝে,
সে অনুসারে নির্ভরযোগ্য চরিত্রের অধিকারী হয় এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে সেই আদর্শ ও মূলনীতির
প্রতিফলন ঘটায়।
৪. শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে অন্যান্য ধারার সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষায় সাধারণ আবশ্যিক বিষয়সমূহে অভিন্ন
শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করা।
কৌশল
১. বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষা জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় একটি অবিচ্ছেদ্য অংশরূপে প্রতিষ্ঠিত। এই শিক্ষার
স্বকীয়তা বজায় রেখে একে আরও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে
এ শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হয়।
২. বর্তমানে বাংলাদেশে ইবতেদায়ি পাঁচ বছর, দাখিল পাঁচ বছর, আলিম দুই বছর, ফাযিল দুই বছর ও
কামিল দুই বছর মেয়াদি ব্যবস্থা রূপে প্রচলিত আছে। সবধরনের মাদরাসার পুনর্বিন্যাস করে অন্যান্য
ধারার সঙ্গে সমতা রক্ষার লক্ষ্যে ইবতেদায়ি আট বছর , দাখিল দুই এবংআলিম দুই বছর করা হবে।
সাধারণ ধারায় উচ্চশিক্ষার সাথে সমন¦য় রেখে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক ও অন্যান্য
উপকরণ নিশ্চিতকরণ সাপেক্ষে ৪ (চার) বছর মেয়াদি ফাজিল অনার্স এবং এক বছর মেয়াদি কামিল
কোর্স চালু করা হবে।তবে যতদিন পর্যন্ত যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক ও অন্যান্য উপকরণ নিশ্চিত করা
সম্ভব হবে না ততদিন পর্যন্ত ফাযিল ও কামিল কোর্সের বর্তমান মেয়াদ অব্যাহত থাকবে।
৩. শিক্ষার অন্যান্য ধারার সঙ্গে সমন¦য় রেখে ইবতেদায়ি পর্যায়ে নির্দিষ্ট শ্রেণীর শিক্ষাক্রম অনুযায়ী
নির্ধারিত বিষয়সমূহ, অর্থাৎ বাংলা, ইংরেজি, গণিত ,নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, সামাজিক
পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধারণাসহ প্রাকৃ তিক পরিবেশ পরিচিতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান
বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরন করা হবে। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং
তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা প্রদান করা হবে। দাখিল পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত, বাংলাদেশ
স্টাডিজ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় বাধ্যতামূলক থাকবে।
১৮ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০
১৯ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০
৪. সাধারণ শিক্ষার মতো মাদ্রাসা শিক্ষার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা কাঠামো নির্ধারণ করা হবে এবং
তাদের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ সমভাবে উন্মুক্ত রাখা হবে। এই উদ্দেশ্যে
গাজীপুরে স্থাপিত মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের জন্য প্রযোজনীয়
প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণের সুযোগ আরো সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া
হবে।
৫. কওমি মাদরাসার ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কওমি
মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন’করে, উক্ত কমিশন কওমি প্রক্রিয়ায় ইসলাম শিক্ষার ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষাদান
বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করে সরকারের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করবে।
৬. অন্যান্য ধারার মতো একই শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির মাধ্যমে ইবতেদায়ি ও দাখিল পর্যায়ে অন্যান্য
বিষয়ের মধ্যে ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিত, বাংলাদেশ স্টাডিজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর
জোর দেওয়া হবে যেন শিক্ষার্থীগণ দেশে ও বিদেশে নিয়োগক্ষেত্রে চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী
নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পায়। এ উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে মাদরাসাগুলোতে পর্যায়ক্রমে
বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার মতো শিক্ষক-প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ সাপেক্ষে বিজ্ঞানাগার স্থাপন
এবং ভৌত অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাদির সৃষ্টি করা হবে।
৭. সাধারণ শিক্ষার মতো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, শিক্ষা উপকরণ, বৃত্তিদান,
বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ ইত্যাদির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং খেলাধুলার সরঞ্জাম ও সমৃদ্ধ
গ্রন্থাগারের ব্যবস্থা করা হবে।
৮. মাদ্রাসা শিক্ষার ইবতেদায়ি, দাখিল ও আলিম স্তরে স্বীকৃ তি প্রদান, নবায়ন, ধর্মীয় শিক্ষাক্রম ও
পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, পরীক্ষাগ্রহণ, সনদ প্রদান ইত্যাদি কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে প্রয়োজনের নিরিখে পুনর্গঠন করে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করা হবে।
৯. সাধারণ শিক্ষা ধারায় অনুসৃত শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রক্রিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ধারায় অনুসরণ করা হবে ।
১০. মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই শিক্ষার সকল স্তরে সুচারুরূপে
পরিচালনা ও তদারকির জন্য সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিতরূপে পরিবীক্ষণ ও অ্যাকাডেমিক
পরিদর্শনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১. মাদ্রাসা শিক্ষার উচ্চ অর্থাৎ ফাজিল ও কামিল পর্যায়ে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব শিক্ষা ঐচ্ছিক বিষয়
হিসেবে পাঠদান করা হবে।
১২. মাদ্রাসা শিক্ষার উচ্চ অর্থাৎ ফাজিল ও কামিল পর্যায়ে শিক্ষাক্রম/পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন,
শিক্ষাঙ্গনগুলোর তদারকি ও পরিবীক্ষণ এবং পরীক্ষা-পরিচালনাসহ সার্বিক তত্ত্ব¡াবধানের দায়িত্ব
বর্তমানে কুষ্টিয়াস্থ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ন্যস্ত। একটি নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এই
বিশাল দায়িত্ব পালন দুরূহ। উল্লিখিত কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য একটি অনুমোদনকারী
(অ্যাফিলিয়েটিং) ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।