প্রকৌশল শিক্ষা

ar-buet-logo7

উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে তো বটেই, আমাদের সমাজেও সাধারণ
মানুষের জীবনে সকলক্ষেত্রেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তিজ্ঞান এবং এগুলোর প্রয়োগ হয়ে পড়েছে একান্ত
অপরিহার্য। এর ফলে সামাজিক জীবনযাত্রার পটপরিবর্তন হচ্ছে এবং সমাজ জীবনের কার্যধারাতেও আসছে
গতিশীল পরিবর্তন। একবিংশ শতাব্দীতে প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষাক্রম অনেক বদলে যাবে।
প্রকৌশল শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিম্নরূপ: −
১.সমাজে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিসম্পন্ন, বাস্তবধর্মী, দক্ষ প্রকৌশলী ও কারিগরি জনশক্তি গড়ে তোলা যাতে তারা
দেশের উন্নয়নে, প্রাকৃ তিক স¤পদ আহরণে, দারিদ্র দূরীকরণে এবং সমাজ ও অর্থনৈতিক অবস্থার
উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।
২. সর্বক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির উপর জোর দেওয়া যাতে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ায়
প্রকৌশলীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেন।
কৌশল
১. বর্তমান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক পরিবেশ, উন্নয়ন, উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে
স্বাদেশিক ও আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয়সংখ্যক দক্ষ প্রকৌশলী সরবরাহ করার জন্য
প্রকৌশল বিদ্যায়তনগুলোতে প্রয়োজনে একাধিক শিফ্টে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
২. দেশের স¤পদ উন্নয়ন ও বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার সমাধান ও উচ্চমানস¤পন্ন প্রকৌশলী তৈরির জন্য
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও স্নাতকোত্তর কোর্সের প্রতি অধিকতর নজর দেওয়া হবে। গবেষণার
মূল এলাকাগুলো হবে দেশীয় শিল্পের প্রকৌশলগত সমস্যা বিষয়ক।
৩. আধুনিক প্রযুক্তির অভুতপূর্ব ও দ্রুত উন্নয়নের সাথে সংগতি রেখে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং শিক্ষার সাথে
সম্পর্কিত করার জন্য সর্বদা দৃষ্টি রাখা হবে।
৪. দেশের বৃহৎ শিল্পগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, রসায়ন, বস্ত্র, পাট, চামড়া, সিরামিক ও গ্যাস
শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য উপযুক্ত প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরির জন্য অবিল¤ে¦ বিকাশমান বিষয়ে
কোর্স চালুকরা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন নতুন অনুষদ চালু করা বাঞ্ছনীয়।
এসকল বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অতিরিক্ত ব্যয়
সংবলিত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অর্থ-প্রাপ্তির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
৫. প্রকৌশল তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তিবিদ্যার কোর্সগুলোকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদার আলোকে
অধিকতর ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির নিয়মিত হালনাগাদসহ শিল্প কারখানা ও
কারিগরি সংস্থাসমূহে শিক্ষার্থীদের সহায়ক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
২৫ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০
২৬ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০
৬. প্রকৌশল শিক্ষায়তনের সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এক্ষেত্রে নবিশি শিক্ষাসংক্রান্ত বিশেষ সমস্যা স¤পর্কে গবেষণা এবং প্রকৌশল শিক্ষায়তনের সঙ্গে
দেশের সকল পর্যায়ের চে¤¦ার অব কমার্স ও চে¤¦ার অব ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সহযোগিতা করার জন্য যথাযথ
উদ্যোগ নেওয়া হবে ।
৭. প্রকৌশল শিক্ষার শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নের সময় অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, উন্নয়ন, দারিদ্র্য
বিমোচন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ওপরে গুরুত্ব আরোপ হবে।
৮. বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জীবনচক্র ছোট হয়ে যাওয়ায় এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে
তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হওয়ায়, চাকরিতে নিয়োজিত পেশাজীবী প্রকৌশলীদের অব্যাহত শিক্ষা
ও প্রশিক্ষণ এবং অব্যাহত পেশাগত উন্নয়নের ব্যবস্থা ব্যাপকহারে চালু করা হবে।
৯. ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী দেশের প্রকৌশল বিদ্যায়তনে, যথা প্রকৌশল ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, উচ্চতর শিক্ষার জন্য যথাযোগ্য ক্রেডিট সমন¦য়ের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায়
অংশ গ্রহন করতে পারবে।
১০. দেশের প্রচলিত বিভিন্ন স্তরে কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষার মূল্যায়ন ও মান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো পেশাগত ও বিশেষজ্ঞ সংস্থার মূল্যায়ন ও স¦ীকৃ তিদানের ব্যবস্থা করা
হবে।
১১. টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, লেদার টেকনোলজি কলেজ ও টেকনিক্যাল টিচার্স
কলেজগুলোকে আরো শক্তিশালী করা হবে। প্রয়োজনে এ সকল ক্ষেত্রে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠা করা হবে।
১২. প্রকৌশল ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা উৎসাহিত করতে সরকারি দিকনির্দেশনা প্রদানকরা হবে এবং
তার সমন¦য়, পরিবীক্ষণ ও অর্থায়নে সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের।
১৩. শিক্ষা বর্ষের শুরুতে প্রতি বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ণ ও অনুসরণ করা হবে।