চিকিৎসা, সেবা ও শিক্ষা

th
উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
একটি সুস্থ সবল জনগোষ্ঠীই শুধু দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এজন্যে প্রয়োজন স¦াস্থ্য
সচেতনতা, রোগপ্রতিরোধমূলক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং যথাযথ চিকিৎসা ও স¦াস্থ্যসেবা। সেলক্ষ্যে যথাযথ
শিক্ষার মাধ্যমে এদেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, সেবক-সেবিকা, স¦াস্থ্যকর্মী এবং বিশেষজ্ঞ গড়ে তুলতে হবে।
একদিকে শিক্ষার্থীরা যেন তাদের পেশাগত দক্ষতা অর্জন করে অন্যদিকে তারা যেন সংবেদনশীল বিবেকবান
মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। চিকিৎসা সেবা ও স¦াস্থ্য শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নি¤œরূপ :
১০ চিকিৎসা, সেবা ও স¦াস্থ্য শিক্ষা
১।আপামর জনগণের প্রয়োজনীয় স¦াস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুস্থ্য ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে
তোলার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ও যথোপযুক্তমানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সাধারণ চিকিৎসক, দন্ত
চিকিৎসক, চিকিৎসা সহকারী, সেবক-সেবিকা, স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বাস্থ্য জনশক্তি গড়ে
তোলা।
২। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সরকারিভাবে সকলের জন্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবল তৈরি করা।
৩। চিকিৎসা পেশা অন্যান্য পেশার তুলনায় স্পর্শকাতর এবং শারীরিক ও মানসিক কষ্ট/অসুস্থতা তথা
জীবন-মৃত্যুর সমস্যার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সাধারণ চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক,
চিকিৎসা সহকারী, সেবক-সেবিকা, স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ, স্বাস্থ্যকর্মী যেন সংবেদনশীল, সামাজিক
দায়বদ্ধতা বোধসম্পন্ন বিবেকবান মানুষ হিসেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হন সেলক্ষ্যে তাদেরকে
উদ্বুদ্ধ করা।
৪। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সকল উন্নতির সুফল দেশের জনগণের, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে
পৌঁছে দেয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সাধারণ চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, চিকিৎসা সহকারী, সেবক-
সেবিকা, স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ, স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করা এবং
এঁদের সবাইকে সমাজের ও মানব সেবায় অনুপ্রাণীত করা ।
৫। দেশবাসীর ব্যাধি ও চিকিৎসা সমস্যাবলীর মোকাবিলায় উপযুক্ত চিকিৎসা শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞ তৈরির
লক্ষ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৬। চিকিৎসা বিষয়ে গবেষণা করে এ দেশের স্থানীয় রোগ ব্যাধির চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন
করা।
কৌশল
১. মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। ভর্তি
পরীক্ষায় কোন প্রার্থী দুই বছরের বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে না।
২. মেডিকেল কলেজে পাঁচ বছরের শিক্ষাক্রম ও পাঠাসূচি অব্যাহত থাকবে এবং এক বছরের
ইন্টার্নশিপ থাকবে।
২৭ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০
২৮ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০
৩. স্নাতকোত্তর চিকিৎসার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য অধিক সংখ্যক চিকিৎসা-শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞ
তৈরি করা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমান মেডিকেল কলেজে চালূকৃত পোস্ট-
গ্র্যাজুয়েট কোর্সের বিস্তৃ তি অব্যাহত রাখা হবে।
৪. সকল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে। বাস্তব শিখনের বিজ্ঞানাগারগুলোতে
যথোপযুক্ত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবস্থা যথাযথভাবে
গ্রহণ করা হবে।
৫. নার্সিং পেশার চাহিদা দেশে এবং বিদেশে রয়েছে এবং বাড়ছে। মানস¤পন্ন নার্সিং শিক্ষা ও
প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারিত করা হবে।
৬. নার্সিং কলেজে বি.এস.সি ও এম.এস.সি নার্সিং কোর্স খোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৭. নার্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে কোনো হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত রাখা হবে।
৮. স্বাস্থ্য সহকারীদের শিক্ষা বিস্তার ও লাগসই প্রশিক্ষণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৯. মানসম্পন্ন প্যারামেডিকেল শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হবে। এক্ষেত্রে ভর্তির যোগ্যতা ন্যূনতম
এস.এস.সি বা সমমানের হবে। অধিক জনশক্তি প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে সকল মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের সাথে নার্সিং ও প্যারামেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন করা হবে।
১০. আধুনিক এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি ঐতিহ্যিক দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত হোমিওপ্যাথি
এবং ইউনানি ও আয়ুর্বেদী চিকিৎসা ব্যবস্থারও উন্নয়ন সাধনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১১. প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণদান যেন উপযুক্ত মানসম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত
করার জন্য যথাযথ মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। নতুন প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ
অনুমোদন দেওয়ার সময় প্রকল্পের মূল্যায়ন যেন যথাযথ হয় সেদিকে কঠোর নজর রাখা হবে। এই
মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন করার জন্য যথাযথ ক্ষমতাসম্পন্ন ও দক্ষ জনবল সংবলিত মেডিকেল
অ্যাক্রেডিটেশান কাউন্সিল গঠন করা হবে।
১২. মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিসহ অন্যান্য শারীরিক ও
মানসিক চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
১৩. স্বাস্থ্য সেবার ক্রমবর্ধমান সম্প্রসারণের ফলে প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোমেডিকেল ও বায়োঃমেডিক্যাল
ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়ো ফিজিক্স, মেডিকেল ইনফরমেশন সায়েন্স এবং ফিজিও থেরাপি বিষয়গুলো
শিক্ষণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১৪. প্যারামেডিকেল / ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।